Logo
নোটিশ :
দেশের সকল জেলা-উপজেলা-থানা,পৌরসভা,বিশ্ববিদ্যালয় ও সরকারি কলেজ পর্যায় সংবাদকর্মী আবশ্যক । প্রচারেই প্রসার, সীমিত খরচে আপনার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দেন আমাদের পত্রিকায় । যোগাযোগ: 019 79 91 08 65 ।
সংবাদ শিরনাম :
ঠাকুরগাঁওয়ে ৫০ বোতল ফেনসিডিল সহ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার ঠাকুরগাঁওয়ে ৫০ বোতল ফেনসিডিল সহ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার ঠাকুরগাঁওয়ে অতি দরিদ্রদের মাঝে শীত বস্ত্র বিতরণ মেহেন্দিগঞ্জে ইউপি নির্বাচনে শেখ হাসিনার নির্দেশের বিরুদ্ধে পংকজ অনুশারি উজিরপুরে এলডি ট্যাক্স সফটওয়ারের ৩য় পর্যায়ের পাইলটিং কার্যক্রম বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতির নির্দেশ ঠাকুরগাঁওয়ে দুস্থদের মাঝে ৫০ বিজিবি’র শীতবস্ত্র বিতরণ উলানিয়া দক্ষিণ ইউপি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিদ্রোহী প্রার্থীর হামলা,পুলিশের গাড়ীতে অগ্নিসংযোগ!-আহত ৫ মুজিববর্ষে বাকেরগঞ্জ উপজেলা ভূমি অফিসের উদ্যোগে বৃক্ষরোপণ বরিশাল শের-ই-বাংলা কলেজ হাসপাতালে তুখোর প্রতারক শাহেদ রূপে তাজুল ঠাকুরগাঁওয়ে জেলা উন্নয়ন সমন্বয় কমিটির সভা অনুষ্ঠিত
জন্মসূত্র ( উপন্যাস, পর্ব-১১)লেখক উজ্জ্বল হাসান

জন্মসূত্র ( উপন্যাস, পর্ব-১১)লেখক উজ্জ্বল হাসান

জন্মসূত্র 

উজ্জ্বল হাসান   

চাঁদহীন খালি আকাশ আর ভালো লাগে না। একা একা এমন অন্ধকারে বসে থাকতে ইচ্ছা করে না। তাই মার পাশে এসে শুয়ে পড়ি। সারাদিনের দৌড়াদৌড়িতে আমি এতই ক্লান্ত যে কখন ঘুমিয়ে পড়ি জানি না।যখন চেতন পাই তখন আমার উপর পানি পড়ছে। ছাউনীর ভিতরেও পানি ডুকে গেছে। খুব জুরে বৃষ্টি হচ্ছে। এত পানি জমেছে যে ইট দিয়ে আমার উচু করা বিছানাও তলিয়ে যায় কিনা চিন্তা লাগে। বিছানার বাইরে রাখা জিনিসগুলো পানিতে ভাসছে। ছাউনীটার কয়েক জায়গায় ফুটো। পানি জমে জমে মাঝখানটা নিচু হয়ে গেছে। বিছানাটা আরো একপাশে নিয়ে পানি জমার জায়গাটায় আরো বড় করে একটু কেটে দিলাম। ছাউনীর উচু পাশটা যেখান দিয়ে পানি পড়ে না মাকে নিয়ে  ঐ পাশটায় বসে রইলাম।কাছাকাছি কোথায় বাজ পড়ে। ভয়ে মাকে জড়িয়ে ধরি। যতবার বিদ্যুৎ চমকায় ততবার মনে হয় এখনি আমাদের উপর বাজ পড়বে। বৃষ্টি পড়তেই থাকে। থামার কোনো লক্ষণ নেই। পানি বাড়তে থাকে। ইট দিয়ে উচু করা বিছানাতেও পানি উঠে। খড়কুটার বিছানাটাও ভিজে যায় পানিতে। আমি পানিতে নেমে আরো কিছু ইট এনে আরো উচু করে তার উপর মাকে বসতে দেই। ভিজে চুপচুপে আমি অপেক্ষা করতে থাকি কখন বৃষ্টি থামবে অথবা অন্তত কখন সকাল হবে।সকাল পর্যন্তই বৃষ্টি হয়। চারদিক পানি থৈ থৈ করছে। মনে হচ্ছে একদিনেই বন্যা এসে গেছে। আমি ছাউনীর বাইরে এসে একটা ইটের স্তুপের পর বসি।জব্বার চাচাসহ কয়েকজনকে দেখা যায়।  যে জব্বার চাচা কোন কাজে হাত লাগায় না সেও আজ কোদাল নিয়ে সবার সাথে ইট ভাটার পানি বের করার ড্রেন পরিস্কার করতেছে। সবাইকে খুব তাড়াতাড়ি কাজ করার জন্য বলতেছে।হঠাৎ একটা মোটর সাইকেল আসে। আমি মোটরসাইকেল দেখার জন্য হাটু পানিতে রাস্তার দিকে যাই। লোকটা জব্বার চাচাকে শাসাচ্ছে। রাতে ইটভাটাতে না থেকে কোথায় ছিলো তারা? কাচা ইট কেন পলিথিন দিয়ে ডেকে রাখা হয়নি? ভাটা হতে পানি বের হওয়ার ড্রেন কেন বন্ধ? জব্বার চাচা কোন কথাই বলছেন না। সে আবার কাজ করা শুরু করেন। তাড়াতাড়িই ড্রেনটা ঠিক করে ফেলেন। পানি নামতে শুরু হতেই আমি আমার ছাউনীতে আসি। বিছানার থেকে পানি নেমে গেছে। আমি ভেজা ভারী বিছানাটা বের করে এনে বাইরে রাখি।ঐ লোক দুটো এখনো যায়নি। জব্বার চাচা প্রাণপণ চেষ্টা করে যাচ্ছেন। স্তুপ করে রাখা কাচাগুলো নষ্ট জয়ে গেছে।  নষ্ট ইট গুলো উপর থেকে সরানোর কাজ কতেছে। দুটো ছোটো ছোটো বাচ্চাও জব্বার চাচার সাথে এই কাজ করছে দেখে আমিও তাদের সাথে কাজ করতে লাগলাম।প্রায় দুপুর পর্যন্ত চললো সেই কাজ। দুপুরে লোকটার নির্দেশে সবাইকে টাকা দিলো জব্বার চাচা। আমাকেও দিলো। আমি মার জন্য খাবার কিনতে মতিন চাচার দোকানে গেলাম। মতিন চাচা আমাকে জানালো সে নাকি আমাকে এক রত্ন ভান্ডারের সন্ধান দিবে। আমি চুপচাপ রইলাম। হেয়ালী করে কথা বলা মতিন চাচার অভ্যাস। নাসিরুদ্দিনের ছবিসহ একটা পোস্টার মাটিতে পড়ে আছে। মতিন চাচা ঐটার দিকে তাকিয়ে বললো ওর এটাই যোগ্য স্থান। অবশ্য গাছে গাছে পোস্টার লাগানো দেখেও মতিন চাচা আনমনে  বলে ওরে গাছেই ঝুলানো দরকার। রাষ্ট্র পারেনি।আমি খাবার   নিয়ে ছাউনীতে যাই। বিছানাটা ঠিকঠাক করে বিকেল পর্যন্ত শুয়ে থাকি।বিকেলে শফিকরা ইটভাটার পাশে দলবেঁধে খেলাধুলা করছে দেখে এগিয়ে যাই। খেলার জন্য ওরা দুটি দলে ভাগ হয়েছে। একটা দলে একজন কম। আমাকে নিতে চাচ্ছে।  আমি খেলবনা বলার পরেও শফিক আর মুন্নি জোর করে। সবাই একে অপরের দিকে তাকায়। সাজু জানায় আমাকে নিলে সে খেলবে না। শফিক সাজুকে বুঝায় এখানেতো বড়রা নেই।কিছুক্ষণ ভালোই খেলা চলে। কিন্তু এরমাঝেই কোথায় থেকে যেন হঠাৎ চলে আসে সাজুর মা। এসেই গালাগালি শুরু করে।পান্জাবী, জারজ, ফকিন্নি আর কত খারাপ খারাপ কথা। আমাকে শুধু না আমার মাকেও গালিগালাজ করে। আর যেন তাদের সাথে না মিশি। সবাইকে মানা করে আমার সাথে মিশতে। সাজুকে হাতে ধরে ঝাকাতে ঝাকাতে বাড়ীর দিকে নিয়ে যায়।আমি মার কাছে চলে আসি। কতক্ষণ চুপচাপ খড়কুটাহীন বিছানাটাতেই বসে থাকি। বার বার মনে হয় কেন ওদের কথায় খেলতে গেলাম। এরপর আর মিশবোনা ওদের সাথে। বাইরে থেকে খড়কুটার বিছানাটা এনে  বৃষ্টিতে নষ্ট হওয়া ছাউনীটা ঠিকঠাক করি।মা সেইভাবেই শুয়ে আছে। শরীরে কাদা লেগে আছে। কয়েকদিন হলো এমনেই গোসল করানো হয় না। মাথায় ঝট পাকানোর মতো হয়ে গেছে,শরীর থেকে ছেড়া কাপড় থেকে গন্ধ আসে।পানি নেমে গেলেও ছাউনীর চারদিকে মাটি এখনো কাদা কাদা। ভেসে আসা পাতা খড়কুটায় অপরিষ্কার হয়ে আছে। আমি চারদিক ঠিক করতে লাগি। ভাঙ্গা ইট গুলোর জন্য পরিস্কার করা কষ্ট হয়। তাই ভাঙ্গা ইটগুলো উঠিয়ে ইটের স্তুপে রাখি। হঠাৎ স্তুপ থেকে একটা সাপ বের হয়। প্রথমে ভয় পেয়ে গেলেও ধীরে ধীরে ভয় কমে আসে।আশেপাশে কোথায় লাঠি আছে কিনা খোজে দেখি। কোথাও না পেয়ে আবার স্তুপের দিকে এসে সাপটা আর দেখতে পাই না।এবার খুব ভয় পাই। সাপটা কি ছাউনীতে গেলো? মা একা শুয়ে আছে।আমি তাড়াতাড়ি মার কাছে যাই। ছাউনীর চারপাশ খোজে দেখি। সমস্ত জায়গা পরিস্কার করে ফেলি। কোথাও গর্ত আছে কিনা খুজি অনেকক্ষণ । গর্ত পাইনা কিন্তু মন থেকে সাপের ভয়টা যায়না। আজ আর কোথাও যেতে ইচ্ছা করছে না।সাপটা যদি ফিরে আসে? মার যদি কিছু হয়। আমি মাকে জড়িয়ে ধরে শুয়ে থাকি।

Print Friendly, PDF & Email

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *