Logo
নোটিশ :
দেশের সকল জেলা-উপজেলা-থানা,পৌরসভা,বিশ্ববিদ্যালয় ও সরকারি কলেজ পর্যায় সংবাদকর্মী আবশ্যক । প্রচারেই প্রসার, সীমিত খরচে আপনার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দেন আমাদের পত্রিকায় । যোগাযোগ: 019 79 91 08 65 ।

বাস্তিল দুর্গের পতন ও ফরাসি বিপ্লবঃ ১৭৮৯



চিটাগাং ইউনিভার্সিটি হিস্ট্রি ক্লাব আজকের এই ঐতিহাসিক দিনটি তুলে ধরেন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে।আজকের এই দিনে…. পৃথিবীর ইতিহাসে স্মরণীয় দিনগুলোর মধ্যে একটি হচ্ছে ১৪ জুলাই। দিনটি ঐতিহাসিক বাস্তিল দিবস এবং ফ্রান্সের জাতীয় উৎসবের দিন। ফ্রান্সে দিনটি “ল্য ক্যাতৌযে জুইয়ে” বা ১৪ই জুলাই নামে পরিচিত।
প্রতি বছরই নানা আয়োজনের মাধ্যমে ফ্রান্সে দিনটি উদযাপন করা হয়। ১৭৮৯ সালের এই দিনে  ফ্রান্সের সাধারণ জনগণ বাস্তিল দুর্গ দখল করেন। এই ঘটনাকে স্মরণ করেই দিনটি পালন করা হয়। শুধু তাই নয়, ফরাসী বিপ্লব ও আধুনিক ফ্রান্সের প্রতীক হিসেবে গণ্য করা হয় এই ঘটনাটিকে।  
বাস্তিল দুর্গ কী:
বাস্তিল দুর্গের অবস্থান ফ্রান্সের প্যারিসে। দুর্গটি আসলে একটি কুখ্যাত কারাগার। ১৩৭০ খ্রিস্টাব্দে   প্যারিস শহরকে রক্ষা করার জন্য দুর্গটি তৈরি করা হয়েছিল। সপ্তদশ শতকে এটি জেলখানায় পরিণত হয় যেখানে প্রধানত রাজবন্দীদের রাখা হত।
কুখ্যাত এই কারাগারে একবার কোন বন্দী  প্রবেশ করলে তার আর  জীবন নিয়ে ফিরে আসার সম্ভাবনা থাকত না। ১৭৮৯ সালের ১৪ জুলাই  বাস্তিল দুর্গ দখল করে বন্দিদের মুক্ত করে দেওয়ার মধ্য দিয়ে ফরাসি বিপ্লবের সূচনা। ফ্রান্সে তাই এই দিনটি ‘বাস্তিল দিবস’ হিসেবে পালন করা হয় তখন থেকেই।বাস্তিল দুর্গের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে ফরাসী বিপ্লবের নাম।
ফরাসি বিপ্লব:
বলা হয়ে থাকে তৎকালীন ফ্রান্সে শত শত বছর ধরে চলা নির্যাতিত এবং বঞ্চিত ‘থার্ড স্টেট’ বা সাধারণ মানুষের পুঞ্জীভূত ক্ষোভের বর্হিপ্রকাশ এই ফরাসি বিপ্লব। তৎকালীন সময়ে ফ্রান্সের ৯৫ ভাগ সম্পত্তির মালিকানায় ছিল মাত্র ৫ ভাগ মানুষ। তারপরও সেই ৫ ভাগ মানুষই কোন আয়কর দিত না। আর যাদেরকে আয়কর দিত হত তারা তেমন কোন সুবিধা ভোগ তো করতে পারতোই না বরং এই ব্যবস্থার প্রতিবাদ যারাই করতো তাদেরকে বাস্তিল দুর্গে বন্দী করে নির্যাতন করা হত। যে কারণে দুর্গটি পরিচিতি পায় স্বৈরাচারী সরকারের নির্যাতন ও জুলুমের প্রতীক হিসেবে। 
তাই, এই দুর্গকে পতনের মাধ্যমেই পথ সুগম হয় ‘সাম্য, মৈত্রী, স্বাধীনতা, অথবা সম্পত্তির পবিত্র অধিকার’ এই মূলমন্ত্রের ফরাসী বিপ্লবের।  এই বিপ্লবের কল্যাণে ফ্রান্সে রাজতন্ত্র বিলুপ্ত হয়ে প্রজাতান্ত্রিক আদর্শের  অগ্রযাত্রা শুরু হয়। সেই সাথে দেশে রোমান ক্যাথলিক চার্চ সকল গোঁড়ামী ত্যাগ করে নিজেকে পুনর্গঠন করতে বাধ্য হয়।

মোঃ তারিকুল ইসলাম

সংবাদকর্মী, যাযাবর24.কম

চবি ক্যাম্পাস

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *