Logo
নোটিশ :
দেশের সকল জেলা-উপজেলা-থানা,পৌরসভা,বিশ্ববিদ্যালয় ও সরকারি কলেজ পর্যায় সংবাদকর্মী আবশ্যক । প্রচারেই প্রসার, সীমিত খরচে আপনার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দেন আমাদের পত্রিকায় । যোগাযোগ: 019 79 91 08 65 ।
সংবাদ শিরনাম :
ইকরামুল উম্মাহ ফাউন্ডেশন’ হবিগঞ্জ জেলা শাখার পক্ষ থেকে কুরবানির মাংস বিতরণ স্বাস্থ্য সুরক্ষা সামগ্রী বিতরণ মগধরা চেয়ারম্যান এস এম আনোয়ার হোসেনের বাহুবলে বাস ও প্রাইভেটকারের সংঘর্ষে ৩ জন নিহত বাহুবল-চুনারুঘাটের সীমান্ত এলাকার খোয়াই নদী থেকে ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার “০৪ বছর ধরে একই গল্প শুনে আসছি, ব্রিজ ঠিক করা হবে: গ্রামবাসী” শেরপুর জেলা হাবিপ্রবিয়ানদের পক্ষ থেকে বন্যার্তদের মাঝে ঈদ সামগ্রী ও ঔষধ বিতরণ হাসানুজ্জামান জিল্লুর ঈদ শুভেচ্ছা নৌবাহীনি কন্টিনজেন্ট সন্দ্বীপ কতুক পবিত্র ঈদুল আযহা উপলক্ষে ১০০ পরিবারের মাঝে ত্রান বিতরন বাহুবলে চতুর্থ শ্রেণীর ছাত্রীকে ধর্ষণ কমলনগর উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারন সম্পাদক পদপ্রার্থী আজাদ বাঘার ঈদের শুভেচ্ছা
মশিউর রহমান এর গল্প দুঃস্বপ্ন

মশিউর রহমান এর গল্প দুঃস্বপ্ন

দুঃস্বপ্ন

মশিউর রহমান

বিরাট ভাব নিয়ে বাড়ীর উঠোনে দাঁড়ালেন পুলিশের সাব ইন্সপেক্টর কৌশিক সাহেব –
দরজার দিকে এগিয়ে গিয়ে একজন পুলিশ সদস্য হাঁকলো-
ঘরে কেউ আছেন?
কে?কে ওখানে?
ঘরের মধ্যে থেকে উত্তর এলো।
পুলিশ! আমরা থানা থেকে এসেছি –
পুলিশ সদস্য উত্তর দিলো।
হতভম্ব হয়ে অপ্রস্তুত অবস্থায় ঘর থেকে বের হলেন বাড়ীর কর্তা।
প্রায় এক যুগ আগে তিনি বিধবা হয়েছেন –
সংসার নিজ হাতে সামলে যাচ্ছেন,, নামাজ কালাম নিয়মিত পড়েন তিনি।
এবার এসআই কৌশিক সাহেব চোখের কালো সানগ্লাস খুলে প্রৌঢ়ার দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করলেন –
আপনার মেয়ে রিধি কোথায়?
ডাকুন তারে-
আমাদের সাথে থানায় যেতে হবে।
এই তোমরা এদিকে আসো-
কৌশিক সাহেব মহিলা পুলিশকে ডাকলেন।
কেন, কি হয়েছে? আমার মেয়ে কি করেছে? প্রৌঢ়া জিজ্ঞেস করে।
আপনার মেয়ে খুনের সাথে জড়িত –
ওর কারণে একজন আত্মহত্যা করেছে।
আমাদের কাছে প্রাথমিক তথ্য রয়েছে।
ডাকুন তারে-
রিধি বাইরে এসে দেখে প্রায় দশজন পুলিশ।
পুলিশের মহিলা সদস্যরা রিধি কে পুলিশ ভ্যানে উঠিয়ে নিলো।
বাড়ীর আশেপাশের লোকজন জমায়েত হয়ে গেছে –
কারো মুখে কোন কথা নেই-
থানায় ওসি সাহেবের রুমে রিধি কে নেয়া হলো-
ওসি সাহেব জরুরি কাজে বাইরে ছিলো।
ওয়াশরুমে গেছে, বের হয়েই দেখে এসআই কৌশিক কলেজ পড়ুয়া একটা মেয়ের পাশে দাড়িয়ে আছে।
স্যার, এই সেই রিধি-
যার সাথে সবচেয়ে বেশী কনভারসেশন হয়েছে রাতিনের।
রাতিন আত্মহত্যার পূর্ব মুহূর্তেও রিধির ফোনে অসংখ্য বার কল দিয়েছে যদিও সেদিন তাদের মধ্যে কোন কথা হয়নি।
এইবার ওসি সাহেব চোয়াল শক্ত করে
রিধি কে জিজ্ঞেস করলেন –
সত্যি কথা বলো,
তোমাদের মধ্যে কি সম্পর্ক কিংবা সমস্যা ছিলো?
তুমি সত্যি কথা বলো!
তুমি সত্যি বললে আমরাও বেচে যাই –
রাতিনের মৃত্যুর পর থেকেই একটা চাপ-
একদিকে রাজনৈতিক নেতারা,অন্যদিকে সামাজিক সংগঠন।
ওফ্ফ! ওসি সাহেব রিধির স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি আশা করছে।
রিধির চোখ বেয়ে জল গড়িয়ে পড়তে লাগলো-
ডুকরে কেঁদে উঠলো।
এই রিধি কি হয়েছে? এমন করস ক্যান?
ফজরের নামাজ পড়ছিলো রিধির আম্মু,
রিধি তখনও ঘুমাচ্ছিল-
ঘুমের মধ্যে কেমন কান্নার মতো শব্দ।
রিধি খেয়াল করলো একটা দুঃস্বপ্ন দেখছিলো-
না আম্মু, ঠিক আছে।
এর চেয়ে বেশি কিছু বললো না।
বিছানা ছেড়ে ওয়াশরুমের দিকে না গিয়ে মোবাইল হাতে নিল রিধি-
ইনবক্সে কারো মেসেজ আছে কিনা?
তার ফেসবুক ওয়ালে…
রিধির এক ফেসবুক ফ্রেন্ড একটা স্যাড পোস্ট দিয়েছে –
গতরাতে আত্মহত্যা করেছে রাতিন।
আতংকে নিজের চোখ কে বিশ্বাস করতে পারছে না রিধি।
তাহলে আমার দুঃস্বপ্ন কি সত্যি হয়ে গেলো?
আমাকে আর জ্বালাবে কে?
এত ভালো মেয়ে মানুষ আর কে বলবে আমায়?
কে আমার স্বপ্ন পূরণে সহযাত্রী হওয়ার সাহস যোগাবে?
স্বপ্নে যতটা ভয় পেয়েছিলো, এইবার ঠিক ততটাই শক্ত করলো মন কে…
তাড়াতাড়ি রেডি হয়ে বের হতে হবে তাকে-
মানুষের ছোট্ট জীবনে কত কিছু ঘটে –
আমি স্বার্থপর তবে আমারও সাহস আছে-
কদিনই আর বাঁচবো -এবার না হয় ভিন্ন রকম ভাবি!
আম্মু আমি বাইরে যাবো!
নাস্তা করে যাবি না?জিজ্ঞেস করলো রিধির আম্মু!
না,এখন খাবো না।
দ্রুত বাড়ি থেকে বের হয়ে গেলো রিধি…
ভাবতে লাগলো কোথা থেকে শুরু করবো? আগে কোথায় যাবো?
কোথায় কি বলবো?
আজকে সে সাহসী হয়ে গেছে!
প্রবাদ আছে -Only the brave deserve the fair….
আত্নকেন্দ্রীক মানুষ কোনদিনই সাহসী হয়না, তাদের দিয়ে পৃথিবীতে কোন ভালো কাজ হয় না।
সাহসীদের কারনেই আমরা এই সুন্দর পৃথিবী পাই,আর সুন্দর পৃথিবীতে সেইসব সাহসী মানুষগুলুকে ভুলে যাই-
সাহসী মন নিয়ে রিধি এগুতে থাকলো —

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *